সারাদেশ

বগুড়ায় যমুনার পানি বৃদ্ধি, বিপদজনক অবস্থায় ৬টি স্থান

ডেস্ক নিউজ: বগুড়ায় যমুনা নদীর পানি বেড়েছে। যার ফলে সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা উপজেলার চরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় সারিয়াকান্দি পয়েন্টে যমুনার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে বিপদ সীমার ৩২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছে।

যমুনায় প্রতিঘন্টায় দুই সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধির ফলে বগুড়া অংশের ৪৫ কিলোমিটারের ৬টি স্থান বিপদজনক হয়ে পড়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি বিপদজনক সারিয়াকান্দির ইছামারা নামক স্থান।

সরেজমিনে দেখা যায়, যমুনার বগুড়া অংশের সোনাতলা, সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলার ৪৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সোনাতলার সুজাতপুর, সারিয়াকান্দির হাটশেরপুর, শিমুল দায়ের, কর্ণিবাড়ি, ইছামারা ও ধুনটের শহড়াবাড়ী এলাকায় প্রতিনিয়ত পানি বৃদ্ধির ফলে যমুনাপাড় ভাঙ্গন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। অনেক ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বগুড়া অংশের ৪৫ কিলোমিটারে সোনাতলার সুজাতপুরে ১৫০ মিটার, সারিয়াকান্দির হাটশেরপুরে ৩শ মিটার, শিমুলদায়েরে ৬ মিটার, কর্ণিবাড়িতে ১০০ মিটার, ইছামারায় ৫০০ মিটার এবং শহড়াবাড়ীতে ৬ মিটার যমুনার পাড় ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

গত বুধবার যমুনায় ঘন্টায় ২ সেন্টিমিটার করে বাড়লেও বৃহস্পতিবার থেকে ঘন্টায় ৩ সেন্টিমিটার করে পানির উচ্চতা বাড়ছে। বৃহস্পতিবার বন্যার পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় যমুনা তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

শুধু সারিয়াকন্দি উপজেলার ৭৫টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১১ হাজার ৯৭০ জন মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এমন তথ্য দিয়েছে সারিয়াকান্দি উপজেলা কন্ট্রোল রুম। ৫০ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা এরই মধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে। বন্যার পানি বাঁধের নিচে স্পর্শ করেছে। ১৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। ৮টি মৎস্য খামারের মাছ ভেসে গেছে।

সারিয়াকান্দি উপজেলার কর্ণিবাড়ি. কামালপুর, চন্দনবাইশা, হাটশেরপুর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। কুতুবপুর, দেবডাঙ্গা, রহদহ এলাকার অনেক মানুষ নিরাপদ আশ্রয় হিসাবে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। আবার অনেক ইউনিয়নের মানুষ মনে করছে এই বন্যা দীর্ স্থায়ী হবে না। তাই তারা বসতভিটায় রয়ে গেছেন।

ইছামারা গ্রামের গিয়াস উদ্দিন জানান, আমাদের গ্রামের সিংহভাগ এখন যমুনায় বিলীন। কিছু অংশ আছে গ্রামের। গতবার তিনদিনের ভাঙ্গনে ১৭শত মিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এবারও ওই ভাঙ্গনের দক্ষিণ পাশে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ফাটলও ধরেছে। ভাঙ্গন গতবারের মত হলে একদিনও লাগবে না পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধে আঘাত হানতে।

শহড়বাড়ী গ্রামের আমিনুল ইসলাম জানান, সেখানে ভাঙ্গন শুরু হওয়ার পরই জিও ব্যাগ ভর্তি বালির বস্তা ফেলা হচ্ছে। তবে স্রোতের তীব্রতা বাড়লে কি হবে বলা যাচ্ছে না।

বগুড়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মতলুবর রহমান জানান, এ পর্যন্ত জেলার সোনাতলা ও সারিয়াকান্দিতে ৮২১ হেক্টর জমির ভুট্টা, পাট ও শাকসবজি তলিয়ে গেছে। পানি বাড়তে থাকলে আরও ফসলী জমি তলিয়ে যাবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বগুড়া সার্কেলের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির জানান, আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় যমুনার পানি বেড়ে ১৬ দশমিক ৫৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যতই পানি বাড়ছে ততই নতুন-নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। দীর্ঘ ৪৫ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধে এখন পর্যন্ত কোনো ঝুঁকি দেখছি না।

তিনি আরো বলেন, ৬টি পয়েন্টে নদী ভাঙ্গলেও সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ইছামারা অংশে। কারণ, নদী থেকে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধের দুরত্ব মাত্র ৩শত মিটার। গত বছর সেখানে ১৭শত মিটার ভেঙে ছিল। সেখানে কাজ করা হয়েছে।  যমুনার ভাঙ্গনের যে গতি তাতে তীব্র ভাঙ্গন শুরু হলে বাধ পর্যন্ত ঠেকে যেতে বেশি সময় লাগবে না।

সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তৌহিদুর রহমান জানান, উপজেলার বন্যা কবলিত এলাকার লোকজনের আশ্রয়ণের জন্য ৬টি বন্যা আশ্রয়ণ কেন্দ্রসহ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকার লোকজনের সরকারিভাবে ত্রাণ-সামগ্রী বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলে বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের মধ্যে আরও ত্রাণ-সামগ্রী বিতরণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *