সারাদেশ

চলন্ত ট্রেনে তরুণী ধর্ষণ: রিমান্ডে যে তথ্য দিলেন সেই ৪ জন

ডেস্ক নিউজ: দয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনে তরুণী ধর্ষণের অভিযোগ স্বীকার করেছেন খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের চার কর্মী। আদালতের নির্দেশে মঙ্গলবার (৩ জুলাই) থেকে তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানা পুলিশ। রিমান্ডে পুলিশের কাছে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেন তারা। দুইদিনের রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার ওসি এসএম শহীদুল ইসলাম বলেন, ট্রেনে তরুণী ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার চারজনকে দুই দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বৃহস্পতিবার আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন তারা। এমনকি ধর্ষণের ঘটনাও বর্ণনা করেছেন। তদন্তের স্বার্থে সেসব তথ্য প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তবে যেহেতু তারা ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন, তাই তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নতুন করে আর আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হবে না।

এর আগে, চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছিল পুলিশ। শুনানি শেষে সোমবার (১ জুলাই) দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন চট্টগ্রাম সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হারুনের আদালত।

গত ২৬ জুন সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনে ধর্ষণের এ ঘটনা ঘটে। ট্রেনটিতে চট্টগ্রামে আসছিলেন ঐ তরুণী। সিলেট থেকে উঠে টিকিট না পেয়ে ট্রেনের খাবার বগিতে অবস্থান করছিলেন তিনি। ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ট্রেনটি লাকসাম অতিক্রম করার সময় খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের (এস এ কর্পোরেশন) কয়েকজন কর্মী তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ তোলেন তরুণী।

তরুণীর বাড়ি বান্দরবানে। তিনি ভৈরবে থাকেন আত্মীয়ের সঙ্গে। তবে সিলেট গিয়েছিলেন ভাইয়ের বাসায়। সেখান থেকে বাড়ি (বান্দরবান) যাওয়ার জন্যই ফিরছিলেন চট্টগ্রাম।

ট্রেনটি চট্টগ্রামে পৌঁছালে ঘটনা জানাজানি হয়। এরপর ঐদিনই তাৎক্ষণিক অভিযানে তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন ২৭ জুন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর এলাকা থেকে আরো একজনকে গ্রেফতার করা হয়। তরুণীর করা মামলায় পরে চারজনকে কারাগারে পাঠান আদালত।

রিমান্ড শেষে কারাগারে যাওয়া চারজন হলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের ভাদেশ্বরা এলাকার বাছির মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ জামাল, জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার কুলকান্দি মধ্যপাড়ার আব্দুল আজিজের ছেলে রাশেদুল হক, একই জেলার সরিষাবাড়ি উপজেলার কুমারপাড়া এলাকার জামাল উদ্দিনের ছেলে শরীফ মিয়া ও নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর এলাকার গোলাম নবীর ছেলে আব্দুর রব রাসেল।

উল্লেখ্য, এ ঘটনায় উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনটির পরিচালক (গার্ড) আবদুর রহিমকে সাময়িক বরখাস্ত করে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল। একই সঙ্গে ট্রেনে খাবার সরবরাহকারী সেই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *