সম্পত্তি নিয়ে বিরোধে ঢাকা স্থানীয় কাউন্সিলর ও সহযোগীদের দ্বারা বয়স্কা বিধবা নারীকে নির্যাতনের অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানী ঢাকার মিরপুরে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে ৭৭ বছর বয়সী বিধবা হোসনে আরা বেগমের উপর স্থানীয় ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী জহিরুল ইসলাম মানিক এবং তার সহযোগীরা হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মিরপুরের দক্ষিণ পীরেরবাগ এলাকায় নিজের বাড়ি প্রবেশ করতে গেলে জহিরুল ও তার সহযোগীরা তাকে বাধা দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জহিরুল প্রায় ৭-৮ জন সহযোগীসহ হোসনে আরাকে হুমকি ধামকির এক পর্যায়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয় এবং শাররীক ভাবে নির্যাতন করে। এ সময় তিনি গুরুতরভাবে হাঁটুর এবং হাতে চোট পান, যা থেকে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। স্থানীয়রা তাকে দ্রুত নিকটস্থ একটি ক্লিনিকে নিয়ে যায় এবং তিনি বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হোসনে আরা জানান, তিনি সম্প্রতি বিদেশ থেকে বাংলাদেশে ফিরে এসেছেন, দীর্ঘদিন ধরে তার স্বামীর সৎ ভাই জহিরুল এবং তার ভাই মমিনুল ইসলামের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। তিনি আরো জানান, তার দুই মেয়ে এবং কোনো ছেলে সন্তান না থাকায় তার স্বামীর সৎ ভাইয়েরা জোর করে সম্পত্তি কুক্ষিগত করার চেষ্টা করছে। এ ব্যাপার এ তিনি এবং তার পরিবার পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাহায্য চেয়েও পাননি।
উল্লেখ যে, ওয়ার্ড কাউন্সিলর জহিরুল এলাকাতে বেশ আগে থেকেই নানান বিষয়ে বিতর্কিত। স্থানীয় বাসিন্দারা জহিরুলের প্রভাব এবং তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি ও জমি দখল এর মতো অপরাধ। জাতীয় বেশ কিছু সংবাদপত্রে জহিরুল এর অবৈধ কর্মকাণ্ডের খবর প্রকাশিত হয়েছে, কিন্তু আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
হোসনে আরা বেগম এর প্রতিবেশী এবং আত্মীয়রা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এটিকে ক্ষমতার অপব্যবহারের একটি প্রকট উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এ ব্যাপার ভুক্তভোগীর বড়ো মেয়ে বলেন, “এটি শুধু একজন বৃদ্ধ বিধবার উপর আক্রমণ নয়, বরং এলাকার আইনশৃঙ্খলার করুণ অবস্থার একটি প্রতিফলন।”
এই ঘটনায় এলাকাতে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মানবাধিকার কর্মী এবং কমিউনিটি নেতারা হোসনে আরার জন্য ন্যায়বিচার দাবি করেছেন। তারা সরকার এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর প্রতি তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন।
এ ব্যাপার এ কাউন্সিলর কাজী জহিরুল ইসলামকে কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন ধরেননি। সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে কিন্তু এখন পর্যন্ত লিখিত কোনো অভিযোগ তারা পাননি।
