নকল পে-স্লিপে রেমিট্যান্স জালিয়াতি, গ্রেফতার ৫
ডেস্ক নিউজ: ঢাকার কেরাণীগঞ্জে অভিনব কায়দায় নকল পে-স্লিপের মাধ্যমে জালিয়াতি করে ব্যাংক থেকে রেমিট্যান্সের টাকা উত্তোলনকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই চক্র জালিয়াতির মাধ্যমে পাঁচটি ব্যাংকের ১১টি শাখা থেকে প্রায় ৭০ লাখ টাকা উত্তোলন করেছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- রিপন মিয়া ওরফে হোন্ডা রিপন, রহিম মুন্সী, মোহাম্মদ জুয়েল, আসাদুজ্জামান স্বপন ও কুলসুম বেগম।
রোববার নিজ কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান।
তিনি জানান, গত ৩ মে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে অজ্ঞাত সাত-আটজন প্রতারক বেসরকারি সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জের হাসনাবাদ শাখায় প্রবেশ করে। তারা সংশ্লিষ্ট অফিসারের স্বাক্ষর ও সিল নকল করে দুটি রেমিট্যান্স কাউন্টার থেকে পাঁচটি জাল রেমিট্যান্স পে-স্লিপের মাধ্যমে প্রায় ৬ লাখ টাকা উত্তোলন করে পালিয়ে যায়। পরে হিসাবে গরমিল দেখা দিলে ব্যাংক কর্মকর্তারা সিসিটিভি ফুটেজ দেখেন।
ফুটেজে তারা দেখতে পান, ঐ দিন দুজন বোরকা পরা নারী ও তিনজন মাস্ক পরা পুরুষ পাঁচটি জাল রেমিট্যান্স পে-স্লিপের মাধ্যমে রেমিট্যান্স প্রদানকারী কাউন্টার থেকে ঐ টাকা উত্তোলন করে। ঐ সময় তাদের সহায়তা করার জন্য ব্যাংকের বাইরে আরো চার-পাঁচজন অজ্ঞাত লোক ঘোরাফেরা করছিল।
এ ঘটনায় গত ১২ জুন দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানায় একটি মামলা করা হয়। মামলার ভিত্তিতে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও পর্যবেক্ষণ করে এই প্রতারক চক্রকে শনাক্ত করা হয়। পরে গাজীপুর, রাজধানীসহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অকপটে প্রতারণা করে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের কথা স্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, তাদের দলে আরো ১৫-২০ জন সদস্য রয়েছে। এ চক্র কেরাণীগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাঁচটি ব্যাংকের ১১টি শাখা থেকে রেমিট্যান্সের ৭০ লাখ টাকা উত্তোলন করেছে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে কিছু টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস-দক্ষিণ) আমিনুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কেরাণীগঞ্জ সার্কেল) শাহাবুদ্দীন কবির প্রমুখ।
