সোনাইমুড়িতে কলেজ শিক্ষক প্রার্থীর ওপর সন্ত্রাসী হামলা
নিজস্ব সংবাদদাতা, নোয়াখালী: সোনাইমুড়ি উপজেলার আমিশা পাড়ার বাসিন্দা ও খলিলুর রহমান ডিগ্রি কলেজে প্রভাষক পদের একজন নির্বাচিত প্রার্থী জামিলুর রহমান সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন।
জামিলুর রহমানের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৬মে, ২০২৩ তারিখে স্থানীয় বাজার থেকে বাড়ি ফেরার সময় কিছু অজ্ঞাত ব্যক্তি তার পথ আটকায়। তারা তার নাম ও পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর পরই তাকে লোহার রড দিয়ে আঘাত করে এবং বেধড়ক মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য একটি মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করেন।
হামলার কারণ হিসেবে জামিলুর রহমান দাবি করেন, তিনি খলিলুর রহমান ডিগ্রি কলেজে লেকচারার পদে নির্বাচিত হলেও, সোনাইমুড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার রুহুল আমিন তাকে ওই পদ থেকে সরানোর ষড়যন্ত্র করেন। অভিযোগ রয়েছে, চেয়ারম্যান আমিন জেলা প্রশাসক এবং কলেজের পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে প্রভাবিত করে তার নিয়োগ বাতিলের চেষ্টা করেন।
জামিলুর রহমান আরও জানান, ১০এপ্রিল ২০২৩ তারিখে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করলে, চেয়ারম্যান তাকে জানান যে তার বাবার জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে তাকে চাকরির জন্য অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। এসময় চেয়ারম্যান তাকে এলাকায় থাকতে দেওয়া হবেনা হুমকি দিয়েছেন বলে জামিলুর অভিযোগ করেন।
হামলার ঘটনার পর জামিলুর রহমান থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে গেলে, পুলিশ বিষয়টি নথিভুক্ত করতে অনীহা প্রকাশ করে। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ তার অভিযোগ আমলে না নিয়ে তার বাবার রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ করে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
জামিলুর রহমানের ভাষ্য মতে, ২মে ২০২৩ তারিখে উপজেলা চেয়ারম্যান তাকে তার অফিসে ডেকে নিয়ে মানহানির মামলা করার হুমকি দেন এবং তার জীবন দুর্বিষহ করার কথা বলেন। এরপর থেকে তিনি স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসী চক্রের নজরদারিতে আছেন এবং তার জীবনের ওপর সুনির্দিষ্ট হুমকি রয়েছে বলে মনে করেন।
এদিকে, সোনাইমুড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান খন্দকার রুহুল আমিনের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সোনাইমুড়ী থানায় যোগাযোগ করা হলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও এব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
হামলার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসীরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
