ঘূর্ণিঝড় মোখার তাণ্ডবে মিয়ানমারে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২০২
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় মোখার তাণ্ডবে মিয়ানমারে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২০২ জনে দাাঁড়িয়েছে। এছাড়া দেশটির ঘূর্ণিঝড় কবলিত অঞ্চলগুলোতে এখনও নিখোঁজ রয়েছে অসংখ্য মানুষ। ফলে মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বুধবার (১৭ মে) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য ইরাবতী।
আগে থেকেই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় ক্ষতবিক্ষত রাজ্যটি ১৬ বছরের মধ্যে হওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড়ে আরো বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বলে ইরাবতী জানিয়েছে।
রোববার বিকালে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৯৫ কিলোমিটার বাতাসের বেগ নিয়ে রাখাইনে আঘাত হানে মোখা, এখানে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর পর ঝড়টি প্রতিবেশী চীন রাজ্য এবং সাগাইঙ্গ ও মাগউই অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যায়।
সোমবার মিয়ানমারের জান্তা সরকার রাখাইনের ১৭টি ছোট শহরকে দুর্যোগ কবলিত এলাকা বলে ঘোষণা করেছে।
তারা জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার পর তিন দিন পার হলেও আন্তর্জাতিক সংস্থা অথবা সামরিক জান্তার কাছ থেকে কোনো সহায়তা পাননি তারা।
ম্রাউক-ইউ শহরের এক স্বেচ্ছাসেবক জানান, ম্রাউক-ইউ শহরের নিকটবর্তী গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের তাদের ঘরবাড়ি মেরামত করার সামর্থ্য নেই আর তারা শুভাকাঙ্খীদের সাহায্যের জন্য অপেক্ষা করছে।
“শহরে বা গ্রামগুলোতে, কোথাও কোনো উদ্ধারকারী দল আসেনি,” ইরাবতীকে বলেন ম্রাউক-ইউয়ের ওই স্বেচ্ছাসেবক।
এখানকার বাসিন্দারা প্রধান যে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন তা হল পণ্যের অতিরিক্ত দাম। টিন ও চালের কাঠামো বানানোর লোহার অ্যাঙ্গেলের দাম পাঁচগুণ বেড়ে যাওয়ায় অসহায় হয়ে পড়েছেন তারা।
তিনি জানান, দমকল কর্মীরা ও কিছু পুলিশ শহরের আবর্জনা পরিষ্কার করার কাজে সাহায্য করলেও স্থানীয় বাসিন্দারা অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্থানীয় দাতব্য সংস্থাগুলোর ওপরই নির্ভর করছে।
“পোন্নাগিউনের গ্রামগুলোর জন্য জরুরিভিত্তিতে খাবার পানি দরকার, কারণ জলোচ্ছ্বাসের লবণাক্ত পানিতে সব কূপ নষ্ট হয়ে গেছে,” বলেন তিনি।
রাখাইনের প্রতিবেশী চীন রাজ্যে মোখার আঘাতে এক হাজার দুইশরও বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মঙ্গলবার জাতিসংঘ জানিয়েছে।
একইদিন মিয়ানমারের বেসামরিক ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট (এনইউজি) জানিয়েছে, রাজ্যটিতে ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় এক হাজার ১৩৬টি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে।
