Uncategorized

ভিন্নমত : অতি-ধর্মীয় হেফাজত ইসলামের সাথে ধর্মনিরপেক্ষ সরকারের অনৈতিক আপোষরফা যেন এক অন্যরকম রাজনৈতিক খেলা।

কলামিস্ট- ইলিয়াস হোসেন

ভূমিকা:- বর্তমান সরকার বিভিন্ন ভাবে ইসলামপন্থী হেফাজত ইসলামের সাথে বিভিন্ন ভূমিকায় রয়েছে। কখনও কখনও, তারা তাদের সন্তুষ্ট করার জন্য হেফাজতের দাবীর সাথে সরকার তার ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধের সাথে আপোস করে, আবার কখনও কখনও সরকার বিষয়ের এবং সময়ের ভিত্তিতে হেফাজতের বিপক্ষে কাজ করে। হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও শক্তিশালী গ্রুপ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। কথিত ইসলামী বিরোধী নীতি থেকে ইসলামকে রক্ষা করতে এবং ধর্মনিরপেক্ষতার অবসান ঘটাতে, আহমদ শফীর নেতৃত্বে চট্টগ্রামে ২০১০ সালের জানুয়ারীতে হেফাজতে ইসলাম গঠিত হয় এবং পরবর্তীতে শাহবাগ আন্দোলন শুরু হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই ২০১৩-তে এটি একটি অসাধারণ শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়।

২০১৩ সাল থেকে গত এক দশকে আমরা লক্ষ্য করেছি যে, বাংলাদেশে ধর্মীয় উগ্রবাদ ও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ বেড়েছে। সাংস্কৃতিক কর্মী, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী, ব্লগার এবং যুক্তিবাদীদের উপর হামলা বেড়েছে। মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হেফাজতে ইসলামের সাথে শেখ হাসিনা সরকারের অনৈতিক কৌশলগত সমঝোতার কারণে এই অবনতি ঘটেছে।

শেখ হাসিনার দলীয় ইশতেহার ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র এবং সাম্যের উপর ভিত্তি করে। কিন্তু, এখন সরকারের নীতি হেফাজত ও অন্যান্য ইসলামী শক্তির চাপে দেশকে বিশৃঙ্খলা, চরমপন্থা ও নৈরাজ্যের দিকে নিয়ে যাচ্ছে এবং সরকার তার মূল নীতি থেকে সরে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি হেফাজতের চাপে পাস করা হয়েছিল এবং এখন ঐ আইনটি ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী, সাংস্কৃতিক কর্মী, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় পোষ্ট করা যেকোন ধরণের মুক্ত চিন্তাবিদদের বিরুদ্ধে ব্লাসফেমি মামলার জন্য ব্যবহৃত হয়।

ব্লগার ও এ্যাক্টিভিস্টদের গ্রেফতার করা, ব্লগার ও যুক্তিবাদীদের খুনিদের রক্ষা করা, স্কুল-কলেজের একাডেমীক সিলেবাস পরিবর্তন করা, প্রস্তাবিত পরিকল্পনা মতো রাস্তায় ভাস্কর্য স্থাপন না করানো, তাদের কওমি (ধর্মীয়) শিক্ষাকে স্বীকৃতি দেওয়া, সবাই ছিল হেফাজত ইসলামকে খুশি করার জন্য। ফ্রান্স বিরোধী বিক্ষোভ, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের সময় হিংসাত্মক প্রতিবাদ এবং কুমিল্লায় ইসলামপন্থী উগ্রপন্থীদের সাম্প্রদায়িক সহিংসতা, বিশেষ করে হেফাজতে ইসলামের প্রভাব প্রদর্শন করেছে। আর পরিহাসের বিষয় হলো- বর্তমান ধর্মীনিরপেক্ষ আওয়ামী লীগ সরকার এসব উগ্রবাদী শক্তিকে প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। আসুন কয়েকটি ঘটনা দেখি, যা প্রমাণ করে যে, ইসলামী শক্তির সাথে সরকারেরর অনৈতিক বোঝাপড়া ও রাজনৈতিক সমীকরণ।

শাহবাগ আন্দোলন ও হেফাজত ইসলামের অভ্যুন্থান:-

আমরা জানি, ২০১৩ সালের শাহবাগ আন্দোলন ছিল যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে। কিন্তু, সরকার যুদ্ধাপরাধীদের শুধু যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়ে আপোষ করার চেষ্টা করেছিল, যা গণমানুষের আবেগকে আঘাত করেছিল। শেষ পর্যন্ত অনলাইন এ্যাক্টিভিস্ট ইমরান এইচ সরকারের নেতৃত্বে শাহবাগ আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে আন্দোলনে নামেন হাজার হাজার মানুষ। সরকার হেফাজতের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়া সুবিধাজনক অবস্থা পেয়ে যায়। তাই তারা প্রতিবাদকারীদের পক্ষ নেয়। এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তখন আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানায়। পরে সরকার ঐ সুবিধাজনক পরিস্থিতি ব্যবহার করে যুদ্ধাপরাধীদের একের পর এক ফাঁসি দেয়।

আমাদের মনে আছে, ২০১৩ সালে যখন শাহবাগ আন্দোলন চলছিল, তখন কট্টরপন্থী শক্তি, হেফাজত ইসলাম, ধর্মীয় লোকদের সমর্থনে তার নিজস্ব প্রভাবকে পুনরুজ্জীবিত করেছিল, ঐ ধর্মীয় লোকজন ছিল প্রধানত গ্রামীণ অঞ্চলের নিম্ন মধ্যবিত্ত জনগণ। কালক্রমে হেফাজত ইসলাম শক্তিশালী হয়ে ওঠে। বিপরীত, অনলাইন এ্যাক্টিভিস্টরা সরকারের প্রয়োজনে কম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায়। কারণ, যুদ্ধাপরাধী বিষয়গুলি প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল। কারণ, সেই সময়ের মধ্যে বেশিরভাগ যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি হয়ে যায়। হেফাজত ইসলাম ইতিমধ্যে- শক্তিশালী হওয়ায় সরকার তাদের পাশে দাঁড়ায়। এটি পরবর্তীতে সরকার একের পর এক তার ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধের সাথে আপোস করতে শুরু করে এবং অন্যদিকে ব্লগার ও এ্যাক্টিভিস্টরা সরকারের কাছ থেকে অনেক দূরে চলে যায়। কিন্তু সবচেয়ে পরিতাপের বিষয়, হেফাজত ইসলামের সমর্থনে উগ্র ইসলামপন্থীরা যখন একের পর একজন খুন করতে লাগলো তখনও সরকার তাদের রক্ষা করেনি। বøগার আহমেদ রাজীব হায়দার, একজন বাংলাদেশী-আমেরিকান ব্লগার অভিজিৎ রায়, একজন ২৭ বছর বয়সী ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান, ব্লগার অনন্ত বিজয় দাস, ব্লগার নিলয় চ্যাটার্জী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং সোশ্যাল মিডিয়া লেখক নাজিমুদ্দিন সামাদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক একেএম শফিউল ইসলাম এবং রেজাউল ইসলাম, করিম সিদ্দিক, সাহিত্যের প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপন, এলজিবিটি কর্মী জুলহাজ মান্নান এবং নাট্যকর্মী মাহবুব রাব্বি তনয়-সবাইকে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছিল। যখন, সরকারর পদক্ষেপ নিতে নিস্ক্রিয় বলে মনে হয়।

অন্যদিকে ২০১৩ সালে সোশ্যাল মিডিয়া এবং ব্লগে ধর্ম অবমাননাকর বিষয়বস্তু পোষ্ট করার অভিযোগে তিন বøগারকে গ্রেফতার করা হয়। কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটির কাছে ৮৪ জন ব্লগারের তালিকা জমা দেয়। তাদের নাস্তিকতা ও ধর্মনিন্দার অভিযোগে। ২০১৩ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে যখন সেকুলার ব্লগাররা হেফাজতে ইসলামের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সমর্থনে জঙ্গি গোষ্ঠীর দ্বারা নিহত হয়েছিল, আর তখন সরকার তাদের আক্রমণাত্মক লেখার জন্য ক্ষতিগ্রস্থদের দোষারুপ করে।

হেফাজতের দাবি:

হেফাজতে ইসলামের আমির জুনায়েদ বাবুনগরী সরকারের কাছে চারটি দাবি জানিয়েছেন। (১) বাংলাদেশে ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অফ কৃষ্ণ কনসায়নেস (ইসকন) এর সকল কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। (২) আহমদিয়া সম্প্রদায়ের ধর্মীয় কার্যকলাপ নিষিদ্ধ করতে হবে এবং তাদেরকে অনৈসলামিক ঘোষণা করতে হবে। (৩) ফরাসী রাষ্ট্রদূতকে বহিস্কার করতে হবে। (৪) ঢাকায় ফরাসী দূতাবাস বন্ধ করতে হবে।

আমাদের আরও মনে আছে, ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলাম ১৩ দফা এজেন্ডা নিয়ে এসেছিল। তাদের দাবির মধ্যে ছিল আল্লাহ, ইসলাম ও নবী মুহাম্মদকে অপমান করলে মৃত্যুদন্ডের বিধান রেখে একটি আইন পাশ করা। নাস্তিক এবং ব্লগারদের দ্বারা নবী মুহাম্মদ সম্পর্কে যে কোন মন্তব্য বন্ধ করা, নারী পুরুষের অবাধ মেলামেশা সহ বিদেশী সংস্কৃতি নিষিদ্ধ করা এবং ব্যভিচার, অবিচার, নির্লজ্জতার অবসান, মোড়ে মোড়ে, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাস্কর্য স্থাপন বন্ধ করা, ইসলাম বিরোধী নারী নীতি ও শিক্ষানীতি বাতিল করা এবং প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত ইসলামী শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা। অনেকে তাদের দাবিগুলিকে মধ্যযুগে যাবার রাস্তা বিবেচনা করেছিল। কিন্তু, সরকার তাদের সাথে আপোস করার চেষ্টা করেছিল। সরকার ইতোমধ্যে হেফাজতের অধিকাংশ দাবি মেনে নিয়েছে যা, দেশের অসাম্প্রদায়িক কাঠামোকে প্রভাবিত করেছে এবং সংবিধানের চেতনা লঙ্ঘন করেছে।

হেফাজতের চাপে স্কুলের সিলেবাসের সঙ্গে আপোস:-

২০১৭ সালে, সরকার হেফাজতের দাবিতে সাড়া দিয়ে স্কুলের পাঠ্যসূচি থেকে অমুসলিম লেখকদের ১৭টি জনপ্রিয় কবিতা এবং গল্প মুছে ফেলে। কারণ, দলটি ধর্মনিরপেক্ষতার প্রচারের জন্য এই ধরণের লেখার অভিযোগ এনেছিল।

‘‘মাদার অব কওমি’’ হেফাজতের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বশে আনার স্বীকৃতি

৪ নভেম্বর ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘‘মাদার অব কওমি’’ উপাধিতে ভূষিত করে এই ধর্মীয় গোষ্ঠী। ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘‘শোকরানা মাহফিল’’ নামক এক সমাবেশে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রির সমান সর্বোচ্চ কওমি ডিগ্রির স্বীকৃতির জন্য তাকে এই উপাধি দেওয়া হয়।

পরের বছর সরকার দাওরা-ই-হাদিসকে স্বীকৃতি দিয়ে একটি বিল পাস করে হেফাজত-ই-ইসলাম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত একটি শীর্ষ মাদ্রাসা দ্বারা প্রদত্ত একটি একাডেমিক ডিগ্রি প্রোগ্রাম ইসলামিক স্টাডিজে স্নাতকোত্তর ডিগ্রির মতো একাডেমিক প্রমাণ পত্রাদি।
সরকার হেফাজত ইসলামকে ব্যবহার করছে :-

জনসাধারণের মধ্যে গ্রুপটির ব্যাপক আবেদন সরকারকে নতজানু হতে বাধ্য করে, যখন হেফাজতে ইসলাম একটি কার্যকর রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে প্রমাণিত হয়। আওয়ামী লীগ সরকার দলটিতে তার প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, বাংলাদেশ ন্যাশনালিষ্ট পার্টি এবং জামায়াতে ইসলাম নামক আরেকটি কট্টরপন্থী গোষ্ঠীর রাজনৈতিক শক্তিকে মোকাবেলা করতে ব্যবহার করেছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, ইসলামপন্থী দলগুলো এবং প্রভাবশালী আলেমদের দখলে থাকা ভোটব্যাংক অর্জনের জন্য ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮’তে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের আগে হাসিনা সরকার হেফাজতকে ব্যবহার করে। বিনিময়ে, হেফাজতে ইসলাম আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে সমর্থন দেওয়ার জন্য ১৫টি ইসলামী দল নিয়ে একটি ইসলাম গণতান্ত্রিক জোট গঠন করে। এতে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে। যদিও নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক আছে। সুতরাং শেষ পর্যন্ত ধর্মনিরপেক্ষ শাসক দল এবং চরম মৌলবাদী গোষ্ঠীর মধ্যে এই পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং সহযোগিতা নির্বাচনী সুবিধার জন্য ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধকে ক্ষুন্ন করার জন্য অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলির জন্য একটি নজির স্থাপন করেছেন।

ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের পর সরকারের অবস্থান :-

প্রভাবশালী প্রতিবেশী দেশ ভারতকে সন্তুষ্ট করার জন্য বাংলাদেশ সরকার ২০২১ সালের মার্চ মাসে তার অবস্থান পরিবর্তন করে ঐ সময়ে মোদির সফরের সময় বিস্তৃত বিক্ষোভ ও ক্ষতিসাধনের জন্য হেফাজত-ই-ইসলামের শত শত সদস্য ও সমর্থককে সরকার গ্রেফতার করে। দেশের পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম ও ব্রা²ণবাড়িয়ায় সরকারী অফিস ও সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেকে বিশ্বাস করে যে, সরকার একটি শক্তিশালী প্রতিবেশী দেশের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক ক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে।

কুমিল্লায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতা :-

২০২১ সালের অক্টোবরে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সর্বশেষ সহিংসতা ক্রমবর্ধমান ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার উদ্বেগ ঘটায়। এই সহিংসতা একটি ধর্ম অবমাননার অভিযোগের সাথে সম্পর্কিত, যা কুমিল্লার একটি মন্দিরে একটি হনুমান মূর্তির নিচে একটি কুরআনের ছবি রাখা আছে এই রকম একটি ছবি দূর্গা পূজার সময় ফেসবুকে প্রচারিত হয়। কথিত ধর্ম অবমাননা একটি আবেগপ্রবণ ইস্যূতে পরিণত হয়েছে, যেখানে এমনকি সবচেয়ে অস্পষ্ট অভিযোগও সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় পরিণত হচ্ছে। কুমিল্লার ঘটনা এটা প্রমাণ করে যে, হেফাজতের ইসলামের মতো গোষ্ঠীগুলি সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলিকে সহজেই টার্গেট করতে পারে।

হেফাজত ও এর মিত্রদের শক্তি এবং ভাস্কর্য বিষয়ক সমঝোতা :-

কয়েক বছর আগে হেফাজত মূর্তি স্থাপনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করার পর শেখ হাসিনা সরকার সুপ্রিম কোর্টের চত্বর থেকে গ্রিক দেবী থেমিসের মূর্তি অপসারণ করে। পরবর্তীতে ২০২১ সালে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ছিল এবং জাতি তা উদযাপনের জন্য প্রস্তুত ছিল। হাসিনা সরকার ঢাকায় শেখ মুজিবুর রহমানের একটি বিশাল মূর্তি স্থাপনের পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু, হেফাজতের নেতা মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরী শেখ মুজিবের মূর্তি স্থাপন করা অনৈসলামিক এই কারণে যে কোনো ধরণের স্থাপনা বন্ধ করার হুমকি দেয়।

কিছু প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন দিয়ে উপসংহার :-

বর্তমান সরকার কি ধর্মনিরপেক্ষ? ধর্মনিরপেক্ষ ইস্যূ নিয়ে হেফাজত ইসলামের সঙ্গে তারা কেন আপোস করে? আবার ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সফর যখন এই শক্তির দ্বারা বিরক্ত হয়েছিল, তখন মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর হওয়ার দরকার কেন? কখনও হেফাজতকে প্রশ্রয় দেয় করা এবং আবার কখনও কখনও অন্য ইস্যূতে তাদের উপর কঠোর হওয়া ভন্ডামী এবং অনৈতিক। দেশের সবচেয়ে প্রবীণ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ থেকে আদর্শের কি প্রহসন। ধারণা করা যায়, বর্তমান সরকার মানুষের হৃদয় ও মন জয় না করে তার মতাদর্শগত ছাড় দিয়ে চরমপন্থী দলগুলোর সাথে সমঝোতা করছে। ভন্ডামী, গুন্ডামী ও আপোষরফাটি কি তাহলে আওয়ামী লীগ রাজনীতির দর্শন?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *