সোশ্যাল মিডিয়া পোষ্টের অভিযোগে ইসলামপন্থীদের দ্বারা বেটা গ্রুপের শীর্ষ কর্মকর্তার উপর হামলা
স্টাফ রিপোর্টার: বাড্ডা, ঢাকা: গতকাল সন্ধ্যায় বেটা গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক মো: আতিকুর রহমান তার অফিসের সামনে আসলে ৩/৪ জনের একটি উগ্র ইসলামপন্থী একদল লাঠিসোটা নিয়ে তার উপর নির্মম ভাবে হামলা চালায়। ঘটনাটি ঘটেছে ঢাকার ভাটারায়। ইসলাম ধর্মের ঐ পোশাকধারী হামলাকারীদের এখনো শনাক্ত করা যায়নি।
জনাব রহমান রাত- ৯টার দিকে তার অফিস থেকে বের হয়ে রাস্তায় পার্ক করা তার গাড়ির দিকে এগোলে সেখানে অপেক্ষমান চরমপন্থী দল তাকে লাঠিসোটা দিয়ে লাঠিপেটা করে, যেমন প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে। হামলাকারীরা তাকে লাঞ্ছিত করার সময় চরম ক্ষিপ্ত ছিল। তারা তার ঘাড়ে ও কাঁধে আঘাত করলে সে রাস্তায় পড়ে যায়। পথচারী ও তার চালক তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে। চলে যাওয়ার আগে আক্রমণকারীরা তার গাড়ির পেছনের জানালা ভেঙ্গে ক্ষতিগ্রস্থ করে এবং জনাব রহমানকে নাস্তিক ও ইসলামের শত্রু বলে অভিহিত করে। ‘আল্লাহু আকবার’ বলে চিৎকার করে দুর্বৃত্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
আহতের পরিবারের স্বজনরা অভিযোগ করেন যে, এই হামলার পেছনে বসুন্ধরা গ্রুপ আছে, তারা জনাব রহমানের বিরুদ্ধে ধর্মীয় উগ্রবাদীদের উস্কানি দিয়েছে। গ্রুপের পালিত সন্ত্রাসী নিক্সন, সমরাট, শফিকুল উস্কানি দিয়ে ধর্মান্ধ দলগুলোকে তার ওপর হামলা চালাতে প্রলুব্ধ করে। যদিও আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, ধর্মীয় উগ্রপন্থীরা এ হামলা চালিয়েছে। তবে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন যে, বেটা বাংলাদেশ লিমিটেডের সাথে ব্যবসায়ীক দ্বন্দ্ব থাকায় বসুন্ধরা গ্রুপের প্ররোচনায় এ হামলাটি সংঘঠিত হয়েছে। তার স্বজনরা উল্লেখ করেছেন যে, জনাব রহমান যেহেতু, একজন উদার ও যুক্তিবাদী এবং তার প্রতিফলন তার সোশ্যাল মিডিয়া পোষ্টগুলিতে বিদ্যমান। তাই, বসুন্ধরা গ্রুপ তার পোষ্টগুলি উগ্রপন্থি দলগুলিকে দেখায়, যাতে তারা তার উপর আক্রমণ করে। ৫০ বছর বয়সী জনাব রহমানকে ঘাড়ে ও কাঁধে আঘাতের পর তাৎক্ষণিক ভাবে বাড্ডা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
স্থানীয় বুদ্ধিজীবি মহল মনে করে, এই ঘটনাটি আবার সেই চিত্রটিকে প্রতিফলিত করে, যেখানে লেখক, ব্লগার, সাংবাদিক, কার্টুনিস্ট-তো দুরের কথা সামাজিক মিডিয়াতে যে কোনও ব্যক্তির স্বাধীন মত প্রকাশ করলে তারা যে কোন সময় ধর্মীয় উগ্রবাদীদের দ্বারা আক্রমণের শিকার হতে পারে। বাংলাদেশে ইসলামিক চরমপন্থীদের দ্বারা নির্ধারিত মত প্রকাশের একটি অদৃশ্য রেখা অতিক্রম করার সাহস দেখালে এই দেশ তাদের জন্য একটি বিপজ্জনক জায়গায় পরিণত হয়। মৌলবাদী দলগুলি ছুরি এবং বন্দুক দিয়ে ভিন্নমতের কণ্ঠকে নীরব করার জন্য যে কোনও কিছু করতে পারে।
যোগাযোগ করা হলে বসুন্ধরা গ্রুপ দাবী করছে, এই অভিযোগ তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য একটি প্রচারণা। বসুন্ধরা গ্রুপ উচ্চ পর্যায়ে ব্যবসায়ীক নৈতিকতা বজায় রাখে এবং তার ব্যবসায়ীক প্রতিপক্ষকে কোনো অনৈতিক ভাবে নিশ্চিহ্ন করতে বিশ্বাস করে না।
