সারাদেশ

আখাউড়ায় দেদারছে বিক্রি হচ্ছে মাটি

ডেস্ক নিউজ: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় একটি প্রভাবশালী মহল নানা কৌশলে সরকারি খালের মাটি দেদারছে বিক্রি করে দিচ্ছে। উপজেলার ধরখার ইউপির নুরপুর গ্রামে ২ কিমি একটি খালের খননকৃত মাটি বিক্রি করছে। মাটি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুযায়ী খালের মাটি খাল পাড়ে রাখার নিয়ম থাকলেও মানছে না খননকারী প্রতিষ্ঠান। এতে খালের পাড় ভেঙে পড়া এবং ফসলি জমি খালে পতিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিক্রিকৃত ওই সব মাটি দিয়ে পুকুর এবং তিন ফসলি জমি ভরাট চলছে। এভাবে ওই চক্রটি একদিকে ফসলি জমির ক্ষতি করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

ঠিকাদারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ধরখার গ্রামের জসিম মিয়া ও মুসা মিয়া, রুটি গ্রামের রাসেল মিয়া এবং ভাটামাথা গ্রামের নুরুল ইসলাম এসব মাটি বিক্রি করছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করছে।

এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে উপজেলা প্রশাসন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অর্ধশত লোকের স্বাক্ষরযুক্ত একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ইউপির নুরুল হুদা নয়ন নামে এক ব্যক্তি।

ঠিকাদার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, তিনি মাটি বিক্রি করছেন না। জায়গা না থাকায় তিনি কিছু মাটি বাইরে জমি এবং পুকুরে রাখছেন। দ্রুত এখান থেকে মাটি সরানো হবে।

জানা গেছে, নুরপুর গ্রামের কবরস্থান থেকে পশ্চিমে তিতাস নদী পর্যন্ত ২.২ কিমি দীর্ঘ একটি খাল খনন করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। প্রকল্পের চুক্তিমূল্য ১ কোটি ২৮ লাখ ৬৯ হাজার। খননের কাজ পেয়েছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ইউনুছ এন্ড ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড।  গত ৬ এপ্রিল কাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে খনন কাজ শেষে করার কথা। খালটি প্রায় ১৫ মিটার চওড়া এবং ৩-৪ মিটার গভীর খনন কাজ চলছে।
ঠিকাদার মোস্তাফিজুর- জসিম মিয়া, মুসা মিয়া, রাসেল মিয়া এবং নুরুল ইসলামকে দিয়ে খালের খনন কাজ করাচ্ছেন। কিন্তু ঠিকাদারের লোকজন খালের খননকৃত মাটি খালের পাড়ে না রেখে বিক্রি করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভেকু এবং ড্রেজার মেশিন দিয়ে খাল খনন কাজ চলছে। কয়েকটি ট্রাক্টর খননকৃত এসব মাটি নিয়ে যাচ্ছে।

ভেকু চালক আক্তার ইসলাম বলেন, খাল খননের জন্য জসিম মিয়া আমার কোম্পানি থেকে ভেকু এনেছে। আমি খনন করছি। মাটি কোথায় নিচ্ছে তা আমি জানি না।

স্থানীয় বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম বলেন- জসিম, মুসাসহ আরো কয়েজন লোক দিনরাত ট্রাক্টর দিয়ে খালের মাটি বিক্রি করে দিচ্ছে।

নুরুল হুদা নয়ন বলেন, খালের পাড় দিয়ে জমিতে যাওয়ার একটি মাটির রাস্তা আছে। রাস্তাটি ভালো না। আমরা ঠিকাদারকে বলেছিলাম খালের মাটি দিয়ে রাস্তা মেরামত করে দেওয়ার জন্য। এতে করে জমিতে যাওয়া আসা এবং ধান কেটে বাড়িতে নিয়ে আসতে কৃষকদের সুবিধা হবে। খালের পাড়ও মজবুত হবে। কিন্তু স্থানীয় একটি চক্র ঠিকাদারের সঙ্গে আঁতাত করে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে লাখ লাখ টাকার মাটি বিক্রি করে দিচ্ছে। এসব মাটি দিয়ে পুকুর, তিন ফসলি জমি ভরাট করা হচ্ছে।

মো. আক্তার হোসেন মাটি বিক্রির সঙ্গে জড়িত নয় বলে দাবি করে বলেন, খাল থেকে ২-৩শ’ ট্রাক মাটি গ্রামের কবরস্থানে ফেলেছি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনজুর রহমান বলেন, মাটি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুযায়ী খালের মাটি বিক্রি করার কোন সুযোগ নেই। মাটি খাস জমি উন্নয়নে ব্যবহার হবে। খালের মাটি খালের পাড়ে রাখা হবে। মাটির পরিমাণ বেশি হলে সরকারি মাটি নিলাম কমিটির মাধ্যমে মাটি নিলামে বিক্রি করা হবে। আমি ঠিকাদারকে তলব করে মাটি অব্যবস্থাপনার বিষয়ে জানতে চাইবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *