গোবরের জ্বালানিতে নারীর বাড়তি আয়
স্টাফ রিপোর্টার: গোবরের ঘুটে বা শলা বানিয়ে জ্বালানির সংকট মেটাচ্ছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার নারীরা। পাশাপাশি ঘুটে বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন তারা। গ্রামাঞ্চলের বেশিরভাগ পরিবারেই কম বেশী গরু লালন পালন করছেন। আবার কেউ কেউ বাণিজ্যিক ভাবে খামার গড়ে তুলেছেন। সংগ্রহকৃত গরুর গোবর দিয়েই এসব জ্বালানি তৈরি করেন নারীরা। এতে কোনো খরচ নেই। তারা সাশ্রয়ী জ্বালানী ব্যবহার করতে গরু-মহিষের গোবর দিয়ে জ্বালানি তৈরি করে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বাড়তি আয় করছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামাঞ্চলের অনেক অসচ্ছল পরিবারের নারীরা নিজ বাড়িসহ অন্যের বাড়ি, রাস্তার পাশ, মাঠঘাট থেকে গরু-মহিষের গোবর সংগ্রহ করে প্রতিদিন জ্বালানি তৈরি করছেন। এরমধ্যে কেউ কেউ বাঁশের লাকড়ির সঙ্গে ধানের গুঁড়া মিশিয়ে লম্বা আকৃতির জ্বালানি কাঠি তৈরি করছেন। কেউবা শুধু গোবর দিয়ে হাতের মুঠোর মাধ্যমে গোলাকৃতির জ্বালানি তৈরি করছেন। এরপর রোদে শুকিয়ে ব্যবহারের উপযোগী করে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে এলাকার বিভিন্ন নিম্নআয়ের লোকজন ও চায়ের দোকানে আবার বিক্রি করছেন। প্রতি বস্তা শুকেনো গোবরের জ্বালানি দুইশ থেকে আড়াইশ’ টাকা দরে বিক্রি করছেন। এতে অনেক গৃহবধূ প্রতিমাসে গড়ে দেড় হাজার থেকে ২ হাজার টাকার ওপর বাড়তি আয় করছেন।
গৃহিণী মর্জিনা বেগম জানান, তার স্বামী একজন অটোরিকশা চালক। পরিবারে ১ ছেলে ২ মেয়েসহ ৬ জন সদস্য রয়েছে। স্বামীর আয়ে সংসার চালাতে তাদের খুবই কষ্ট হয়। গত ১ বছর ধরে আশপাশের বাড়ি থেকে গরুর গোবর সংগ্রহ করে জ্বালানি তৈরি করছেন। একদিকে নিজে ব্যবহার করছেন অন্যদিকে অবশিষ্টগুলো বিক্রি করে প্রতিমাসে দেড় হাজার থেকে সাড়ে ২ হাজার টাকা আয় করছেন। এই টাকা দিয়ে নিজসহ ছেলে-মেয়েদের খরচের জোগান দিচ্ছেন।
গৃহবধূ পারুল আক্তার জানান, নিজের একটি গরু রয়েছে। তাছাড়া অন্যবাড়ি থেকে গোবর সংগ্রহ করছেন। তারপর গোবর দিয়ে জ্বলানি তৈরি করছেন। রোদে শুকানোর পর নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বাকীগুলো বিক্রি করছেন। এতে প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকার ওপর আয় করছেন তিনি।
রাজিয়া খাতুন জানান, তার বাড়ি সংলগ্ন একটি খামার রয়েছে। ওই খামার থেকে প্রতিদিন গোবর সংগ্রহ করে জ্বালানি তৈরি করছেন। এ কাজে সহযোগিতা করছেন তার এক মেয়ে। গোবরের লাকড়ি দিয়ে মাটির চুলাতে রান্না করতে অনেক ভালো লাগে। এখন গোবরের জ্বালানি তার ভরসা। গত মাসে ২ হাজার টাকার গোবরের জ্বালানি বিক্রি করছেন তিনি।
আঙ্গুরা বেগম জানান, সামান্য আয়ের সংসার তাদের। গ্যাস বা কাঠের লাকড়ি কেনার সামর্থ্য নেই। তাই গরুর গোবর সংগ্রহ করে পাটকাঠি দিয়ে শলা তৈরি করছি। নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে অবশিষ্ট সেই শলা বিক্রি করে সংসারে বাড়তি আয় করছেন তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম জানান, গরু-মহিষের গোবর দিয়ে জ্বালানি তৈরি করা খুবই সহজ। এটি এক প্রকার পরিবেশ বান্ধব। উপকরণ হিসেবে প্রয়োজন গরু বা মহিষের গোবর, ধানের তুষ (কুড়া)। তবে এসব জ্বালানি দিয়ে আগুন ভালো জ্বলে। খাবারেও বাড়তি স্বাদ মেলে। জ্বালানি শেষে এ থেকে বের হওয়া ছাই ফসলের জমিতে ব্যবহার করা হয়। এটি একইসঙ্গে উৎকৃষ্ট সার ও পোকা দমনেও ভূমিকা রাখে। গ্রামীণ অনেক বধুরা গোবর দিয়ে তৈরি জ্বালানি ব্যবহার করছেন।
